দলীয় কোন্দলে রাজনীতি ছাড়লেন, ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ উগরে স্পষ্ট ঘোষণা বাবুলের

0
414
BJP MP Babul Supriya announces his retirement from politics in his facebook post

দলীয় কোন্দলে রাজনীতি ছাড়লেন, ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ উগরে স্পষ্ট ঘোষণা বাবুলের

নিজস্ব প্রতিবেদন, নয়াদিল্লি: প্রথমে ব্যাঙ্কের চাকরি ছেড়ে বলিউডে পাড়ি জমানো। সেখানে পা জমিয়ে পরে রাজনীতিতে। এবার সেই রাজনীতিও ছাড়ছেন বলে ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। এবার আর মনে হয় বলতে পারলেন না ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’।

কারণ অন্য কোনও কিছুর প্রেমে পড়ে রাজনীতি ছাড়ছেন না, রাজনীতি ছাড়ছেন রাজ্যে দলের কাজকর্মে বিতশ্রদ্ধ হয়ে। ফেসবুক পোস্টের ছত্রে ছত্রে সে কথা তুলে ধরেছেন। তবে কার বিরুদ্ধে কী ক্ষোভ তা ফেসবুকে স্পষ্ট করেননি। তবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপিতে যাচ্ছে না। ‘নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিয়ে’ ফের নতুন কিছু করতে চান বলে জানিয়েছেন বাবুল।

২০১৪ সালে হঠাৎ করেই রাজনীতিতে আসা আসানসোলের ঘরের ছেলের। তাঁর হয়ে সেবার প্রচারও করেন তৎকালীন এনডিএ-র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। প্রচারে গিয়ে তিনি বলেছিলেন মন্ত্রিসভায় তাঁর বাবুলকে চাই। তাই আসানসোলের মানুষদের বাবুলকে জিতিয়ে দিল্লি পাঠানোর আবেদন করেছিলেন।

সে আবদনে সাড়াও মিলেছিল। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে জেতার পর সাংসদ এবং পরে মন্ত্রীও হন বাবুল। তখন থেকেই বাংলায় বিজেপির অন্যতম মুখ ছিলেন বাবুল। যদিও দলের নির্দেশেই পরে তাঁকে রাজ্যের থেকে দিল্লির রাজনীতি বা মন্ত্রিত্ব নিয়েই বেশি সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে।

এবার ফেসবুক পোস্টে বাবুল ইঙ্গিত দিলেন রাজ্য বিজেপির একাংশের কাজে তিনি বিতশ্রদ্ধ। বাবুল বার বার দিল্লিতে দলের উচ্চনেতৃত্বের কাছে সে কথা জানিয়েছেন। এবং দল ছাড়তে চেয়েছেন। কিন্তু নাড্ডারা বার বার তাঁকে নতুন করে উৎসাহিত করে দলে থাকতে বলেছেন। তিনিও তা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু এবার আর তাঁর পক্ষে দল করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ফেসবুকে ঘোষণাই করে দিলেন।

বাবুল ফেসবুক পোস্টটি শুরুই করেছেন, ‘চললাম… Alvida…’ দিয়ে। তার পর তিনি লিখেছেন, ‘সবার সব কথা শুনলাম – বাবা, (মা) স্ত্রী, কন্যা, দুএকজন প্রিয় বন্ধুবান্ধব.. সবটুকু শুনে বুঝেই অনুভব করেই বলি, অন্য কোন দলেও যাচ্ছি না – #TMC, #Congress, #CPIM, কোথাও নয় – Confirm করছি, কেউ আমাকে ডাকেওনি, আমিও কোথাও যাচ্ছি না 😊 I am a one Team Player ! Have always supported one team #MohunBagan – Have done only party BJP West Bengal.. That’s it !!
চললাম…
‘বেশ কিছু সময়ে তো থাকলাম’.. কিছু মন রাখলাম কিছু ভাঙলাম.. কোথাও আপনাদের হয়তো আমার কাজে খুশি করলাম, কোথাও নিরাশ হতাশ করলাম | মূল্যায়ন আপনারাই নয় করবেন 😊
আমি ‘আমার’ মনে ওঠা সব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পরই বলছি.. আমার মতো করেই বলছি..
চললাম… 👋

Social Work করতে গেলে রাজনীতিতে না থেকেও করা যায় – নিজেকে একটু গুছিয়ে নিই আগে তারপর…
বিগত কয়েকদিনে বার বার মাননীয় অমিত শাহ ও মাননীয় নাড্ডাজির কাছে রাজনীতি ছাড়ার সঙ্কল্প নিয়ে গেছি এবং আমি ওঁদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ যে প্রতিবারই ওঁরা আমাকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

আমি তাঁদের এই ভালোবাসা কোনো দিন ভুলবো না আর তাই আবার তাঁদের কাছে গিয়ে সেই একই কথা বলার ধৃষ্টতা আর আমি দেখাতে পারবো না 🙏 বিশেষ করে ‘আমার আমি’ কি করতে চায় তা যখন আমি অনেকদিন আগেই ঠিক করে ফেলেছি।

কাজেই আবার একই কথার পুনরাবৃত্তি করতে গেলে কোথাও না কোথাও তাঁরা ভাবতেই পারেন যে আমি কোনো ‘পদের’ জন্য ‘Bargain’ করছি | আর তা যখন একেবারেই সত্য নয় তখন একেবারেই চাইনা যে তাঁদের মনের ঈশান কোণেও সেই ‘সন্দেহের’ উদ্রেক হোক – এক মূহুর্তের জন্য হলেও।
প্রার্থনা করি ওঁরা আমায় ভুল না বুঝে, ক্ষমা করবেন।

আমি আর বিশেষ কিছু বলবো না – এখন ‘আপনারা বলবেন আমি শুনব’ – দিনেরবেলায়, ‘সন্ধ্যাবেলায়’ 😊
কিন্তু একটা প্রশ্নের জবাব আমাকে দিয়ে যেতেই হবে because it’s pertinent ! প্রশ্ন উঠবেই কেনই বা রাজনীতি ছাড়তে গেছিলাম? মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার সাথে তার কি কোনো সম্পর্ক আছে? হ্যাঁ আছে – কিছুটা তো নিশ্চয় আছে ! তঞ্চকতা করতে চাইনা তাই সে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেলেই তা সঠিক হবে-আমাকেও তা শান্তি দেবে।

2014 আর 2019 -এর মধ্যে অনেক ফারাক।
তখন শুধু BJP-র টিকিটে আমি একাই ছিল (With due respect to Ahluwaliaji – GJM was BJP’s ally in the Darjeeling seat) কিন্তু আজ বাংলায় বিজেপিই প্রধান বিরোধী দল। আজ পার্টিতে অনেক নতুন Bright তরুণ তুর্কী নেতা যেমন আছে তেমনি অনেক প্রবীণ বিদগ্ধ নেতাও আছেন।

এঁদের নেতৃত্বে দল এখান থেকে অনেক দূর যাবে এটা বলাই বাহুল্য | বলতে দ্বিধা নেই যে আজ পার্টিতে কোনও একজন ব্যক্তিবিশেষের থাকা না থাকাটা যে কোন বড় ব্যাপার নয় তাও স্পষ্ট হয়েছে এবং এটা মেনে নেওয়াটাই যে সঠীক সিদ্ধান্ত হবে এটাই আমার দৃঢ়, সুদৃঢ় বিশ্বাস !

আরেকটা কথা.. ভোটের আগে থেকেই কিছু কিছু ব্যাপারে রাজ্য নেতৃত্বের সাথে মতান্তর হচ্ছিল – তা হতেই পারে কিন্তু তার মধ্যে কিছু বিষয় জনসমক্ষে চলে আসছিলো | তার জন্য কোথাও আমি দায়ী (একটি ফেসবুক পোস্ট করেছিলাম যা পার্টির শৃংখলাভঙ্গের পর্যায়েই পড়ে) আবার কোথাও অন্য নেতারাও ভীষণভাবে দায়ী, যদিও কে কতটা দায়ী সে প্রসঙ্গে আমি আজ আর যেতে চাইনা – কিন্তু Senior নেতাদের মতানৈক্য ও কলহে পার্টির ক্ষতি তো হচ্ছিলই, ‘গ্রাউন্ড জিরো’-তেও পার্টির কর্মীদের মনোবলকে যে তা কোনোভাবেই সাহায্য করছিলো না তা বুঝতে ‘রকেট বিজ্ঞান’-এর জ্ঞানের দরকার হয়না।

এই মুহূর্তে তো তা একেবারেই অনভিপ্রেত তাই আসানসোলের মানুষকে অসীম কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানিয়ে আমিই সরে যাচ্ছি।
কোথাও চলে গিয়েছিলাম এটা আমি মানি না – আমি ‘আমার’ সঙ্গেই ছিলাম – তাই কোথাও ফিরে যাচ্ছি আজ একথাও বলবো না |
বহু নতুন মন্ত্রী এখনো সরকারি বাড়ী পাননি তাই আমার বাড়িটি আমি এক মাসের মধ্যে (যত তাড়াতাড়ি সম্ভব – হয়তো তার আগেই) ছেড়ে দেবো।
না, মাইনেও আর নেবোনা।

আকাশে, একটি উড়ানে স্বামী রামদেবজীর সঙ্গে একটা ছোট কথোকপথন হয়েছিল | একদমই ভালো লাগেনি যখন বুঝেছিলাম যে বাংলাকে বিজেপি খুব seriously নিচ্ছে, শক্তির সাথে লড়বেও কিন্তু বোধহয় কোনো আসন আশা করছেনা | মনে হয়েছিল, যে বাঙালি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, অটল বিহারী বাজপেয়ীকে এত শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে, সেই বাঙালি বিজেপিকে একটাও আসনে জেতাবে না এটা কি করে হতে পারে !!!

বিশেষ করে সারা ভারত যখন ভোটের আগেই ঠিক করে ফেলেছিলো যে তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরি, মনোনীয় শ্রী নরেন্দ্র মোদিই ভারতের আগামী প্রধানমন্ত্রী হবেন, তখন বাংলা কেন অন্যরকম ভাববে | চ্যালেঞ্জটা একজন বাঙালি হিসেবে তখনই নেওয়া উচিত বলে মনে হয়েছিল তাই সবার কথা শুনেছি কিন্তু নিজের যা মনে হয়েছিল তাই করেছি – অনিশ্চয়তাকে ভয় না পেয়ে নিজে যা ঠিক মনে করেছি, ‘মন-প্রাণ’ দিয়ে করেছি |

1992 – তে Standard Chartered Bank-এর চাকরী ছেড়ে মুম্বাইতে পালানোর সময়েও তাই করেছিলাম, আজ তাই করলাম !!!
চললাম..
হ্যাঁ, কিছু কথা বাকি রয়ে গেলো..
হয়তো কখনো বলবো..
আজ নাই বা বললাম..
চললাম..’