তালেবান সরকার গঠনে মূলকাঁটা পাঞ্জশির, এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে নারাজ

0
121
Panjshir is an obstacle to the formation of a Taliban government

তালেবান সরকার গঠনে মূলকাঁটা পাঞ্জশির, এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে নারাজ

নিউজ রুম: –  ১৫ আগস্ট কাবুল-সহ পুরো আফগানিস্তানের দখল নেই তালেবানরা। তারা পুরো দেশ দখল করে নেয়ার কথা জানালেও ধাক্কা খায় পাঞ্জশির উপত্যকায়। এখনো সেখানে তালেবানের সঙ্গে স্থানীয় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফন্ট বাহিনীর তীব্র লড়াই বর্তমান। এই উপত্যকা আফগানিস্তানের একমাত্র অঞ্চল যা এখনও তালেবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গেছে। এখানে তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দেয় এনআরএফ বাহিনী।

এনআরএফ-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তালেবানের সঙ্গে তাদের যুদ্ধে কয়েকশ তালেবান যোদ্ধাকে হত্যা করে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে। কিন্তু দু’দিন আগেই তালেবানের একজন মুখপাত্র দাবি করেন, তাদের যোদ্ধারা পাঞ্জশির উপত্যকায় ঢুকে পড়েছে এবং তারা পাঞ্জশির দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে তালেবান যে কোন সময়ে আফগানিস্থানে সরকার গঠনের ঘোষণা দিতে পারে। কিন্তু বাধা হিসেবে এখনও থেকে গেছে এই পঞ্জশির।

ঐতিহ্যবাহী এই তালেবান বিরোধী অঞ্চলটিতে দেড় থেকে 2 লক্ষ মানুষ বসবাস করেন। এই উপত্যকা এখনও পাঞ্জশিরের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের নিয়ন্ত্রণে। তাদের যোদ্ধারা বলছে, তালেবানের যোদ্ধারা পাঞ্জশেরের তিন দিক থেকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে।
মিলিশিয়া যোদ্ধা এবং আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্যদের নিয়ে গঠিত পাঞ্জশিরের এই ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট তাদের আটকাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এই ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টকে নেতৃত্ব দিচ্ছে আফগান সরকারের সাবেক একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ।

বিভিন্ন মিডিয়ায় পঞ্জশিরে যুদ্ধের যেসব চিত্র প্রকাশ পেয়েছে তাতে এই ফন্টের যোদ্ধাদের কার্যত সংগঠিত, সশস্ত্র এবং ভালভাবে প্রশিক্ষিত একটি গোষ্ঠী বলে মনে হচ্ছে। এই ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফন্টের নেতা আহমাদ মাসুদ বলেছেন, তালেবানকে ঠেকিয়ে রাখতে তার গোষ্ঠী বদ্ধ পরিকর। যদিও পাঞ্জশিরের লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এরই পাশাপাশি আমেরিকার সাথে ইংল্যান্ড অন্যান্য রাষ্ট্রপতিগণ সরকারকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। তারাও নিজেদের মতো ছক্কা শুরু করছ বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এই পঞ্জশিরের জন্যই এখনো তালেবান সরকার গঠনের ঘোষণা করতে পারছেন না বলে মনে পড়ছে বিশিষ্ট মহল। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে চলেছে গোটা বিশ্ব।