স্বাস্থ্য নিয়ে এই ভুল ধারণাগুলো ভাঙুন আজই

0
1347
some myth of health

স্বাস্থ্য নিয়ে এই ভুল ধারণাগুলো ভাঙুন আজই

স্বাস্থ্য নিয়ে অজস্র ভুল তথ্য মানুষের মুখে ঘোরাফেরা করে, যেগুলি পুরপুরি ঠিক নয়। নেট খুললেই পুষ্টি, ওবেসিটি, ক্যান্সার, হাই ব্লাড প্রেসার, সুগার নিয়ে ঝুড়ি ঝুড়ি তথ্য পাবেন। তার মধ্যে থেকে কোনটা মানবেন আর  কোনটা নয় তা বোঝা খুব কঠিন। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন ই কিছু ভুল তথ্য যেগুলি এখনো মানুষের মুখে শোনা যায়-

  • ৮ গ্লাস জল খেতেই হবে:  অনেকের মুখেই শোনা যায় সারাদিনে ৮ গ্লাস জল খেতেই হবে। এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। সুন্দর ত্বক পেতে, হজমের উন্নতি ঘটাতে, শরীর সুস্থ রাখতে ও শরীরের আদ্রতা বজায় রাখতে জল অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। তা বলে গুনে গুনে ৮ গ্লাস! তার বেশি বা কম নয়? এমন ভাবে বিজ্ঞানে কোন কথা কোথাও লেখা নেই। যখনই তেষ্টা পাবে তখনই জল খান। জলের বদলে আপনি স্যুপ, ফলের জুস ও খেতে পারেন। এতে আপনার শরীরের জলের চাহিদা মিটবে।

আরও পড়ুন – হলুদ চা: আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য উপকারিতা: হলুদ চা কীভাবে বানাবেন তা জানুন

  • সারাদিনে একটাই ডিম: সারাদিনে একটার বেশি ডিম খাওয়া নাকি স্বাস্থ্যের পক্ষে ঠিক নয়। দিনে একটার বেশি ডিম খেলে হতে পারে হৃদয় রোগ। এমনই মিথ শোনা যায় অনেকের কাছে। এমন কথা সম্পূর্ণ মিথ্যে। আপনি একটার বেশি ডিম খেতে পারেন। সস্তায় এর থেকে ভালো পুষ্টিকর খাদ্য আর কোন খাবারে আপনি পাবেন না। তাই সানডে হো ইয়া মানডে, রোজ খায় আন্ডে। তবে এটা মনে রাখবেন কোন জিনিস মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।
  • প্রেগনেন্সি তে কেশর: প্রেগনেন্সিতে কেশর খেলে বাচ্চার গায়ের রং ফর্সা হয়। এটিও একটি ভুল ধারনা। মনে রাখবেন বাচ্চা ফর্সা হবে নাকি কালো হবে তা বরাবরই জিনের ওপর নির্ভরশীল। তাই কেশর খেলেই বাচ্চা ফর্সা হবে এমনটা ভাবা ভুল হবে। হাঁ কেশর খেতে পারেন তাতে দুধের স্বাদ বাড়বে ও সুন্দর ফ্লেভার আসে।

আরও পড়ুন – চায়ের ১০টি উপকারিতা, যা আপনার অজানা

  • নিয়মিত মাল্টি ভিটামিন খেতে হয়: অনেকেই ভাবেন যে মাল্টি ভিটামিন ট্যাবলেট খেলেই শুধুমাত্র সমস্ত ভিটামিনের চাহিদা মিটে যাবে। এমন ধারনাও ভুল। আপনি তখন ই মাল্টি ভিটামিন ট্যাবলেট খান যদি কেবল মাত্র ডাক্তারবাবু নিদান দেন। তাছাড়া খেতে যাবেন না। এর ফলে হাইপার ভিটামিনোসিস হতে পারে। মনে রাখবেন ওষুধ নয়, সঠিক ডায়েট মেনে চললেও আপনি মাল্টি ভিটামিন পাবেন ওখান থেকে। সব্জি, ফল, দানা সশ্য বেশি করে খান। দেখবেন আর মাল্টি ভিটামিন ট্যাবলেটের প্রয়োজনই হবে না।   
  • সবুজ শ্লেষ্মা মানেই সংক্রমণ: আমরা জানি, সবুজ বা হলদে শ্লেষ্মা মানই জীবাণুর সংক্রমণ। তার মানে এমনও নয় যে আপনাকে অ্যান্টি বায়টিক খেতে হবে। নিজে থেকে কিছু কিনে খেতে যাবেন না। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তবে মনে রাখবেন অনেক সময় সাইনাস হলে বা সাধারন সর্দি-কাশিতেও কফ হলুদ বা সবুজ হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন – আদা তো প্রত্যেকের রান্না ঘরে থাকে। জেনে নিন আদায় কোন কোন রোগ সারে

  • ক্র্যাকিং জয়েন্ট মানেই আর্থ্রারাইটিস: হাঁটুতে ক্র্যাক তখনই হয় যখন হাড়ের মধ্যে বাতাসের বুদ্বুদ তৈরি হয়। তার মানেই সেটা আর্থ্রারাইটিস নয়। কোন কিছু ভেবে নিয়ে ভয় পাওয়ার আগে একবার পারলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।